গর্ভকালীন কোমর ব্যথার কারণ

ছবি সংগৃহীত

 

ডা. এম ইয়াছিন আলী :  গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা একটি পরিচিত সমস্যা। অন্তঃসত্ত্বাদের কাছ থেকে প্রায়ই এ ধরনের সমস্যার কথা শোনা যায়। এছাড়া এ সময় আরও কিছু সমস্যার কথা শোনা যায়। এসব ব্যথা মাতৃত্বকালীন সময়কে কঠিন করে তোলে। তাই এ বিষয়ে আমাদের আরো যত্নবান হতে হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি চারজনে তিনজন নারী গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা সমস্যায় ভুগে থাকেন। এ সমস্যা সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ দিকে বিশেষ করে তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে বেশি দেখা যায়। মায়ের জরায়ুর যে পাশে বাচ্চা অবস্থান করে সেদিকে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থায় কোমরে এ ধরনের ব্যথা কারও কারও জন্য তেমন সমস্যার কারণ না হলেও কারও জন্য এটা মারাত্মক হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোমরে ব্যথা হওয়ার কারণ নিয়েই এ প্রতিবেদন।

কেন কোমর ব্যথা হয় : গর্ভধারণের শুরু থেকেই শরীরের কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে প্রজেস্টেরন এবং রিলাক্সিন হরমোন সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি হিসেবে কোমরের বিভিন্ন জয়েন্ট এবং লিগামেন্টকে নরম এবং ঢিলা করে দেয়। এর ফলে মায়ের শরীর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। জয়েন্টের ভার বহন ক্ষমতা কমে যায় এবং হাঁটার সময়, বেশিক্ষণ বসে থাকলে, নিচে চেয়ার থেকে ওঠার সময় বা কোনো কিছু তোলার সময় ব্যথা অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বার শরীরের ভরকেন্দ্রও পরিবর্তিত হয় এবং পেটের পেশিগুলো সম্প্রসারিত ও দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে মায়ের Posutre আক্রান্ত হয় এবং পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। যেহেতু মায়ের শরীর এ সময় অতিরিক্ত ওজন বহন করে তাই এ সময় মায়ের শরীরের পেশি এবং জয়েন্টগুলোর ওপর চাপ বেশি থাকে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের পেলভিসে একজোড়া লিগামেন্ট থাকে যা রাউন্ড লিগামেন্ট নামে পরিচিত। এগুলোর কাজ হলো জরায়ুকে সঠিক স্থানে ধরে রাখা। গর্ভধারণের আগে এ লিগামেন্টগুলো পুরু এবং ছোট থাকে। গর্ভধারণের পড়ে জরায়ুর আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ লিগামেন্টগুলো রাবার ব্যান্ডের মতো প্রসারিত হয় এবং পাতলা হয়ে যায়। এ কারণে গর্ভাবস্থায় লিগামেন্টগুলো টান টান অবস্থায় থাকে এবং এতে হঠাৎ কোনো চাপ পড়লে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ ধরনের ব্যথাকে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন বলে। গর্ভবতী নারীরা যখন হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করেন তখন সাধারণত রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন অনুভূত হতে পারে, যেমন- বিছানা বা চেয়ার থেকে ওঠার সময়। কাশি দেওয়ার সময় বা বিছানায় নড়াচড়া করার সময়ও এ ব্যথা হতে পারে। রাউন্ড লিগামেন্ট পেইনের কারণে শারীরিক ধকল গেলেও চাপা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোমরে ব্যথা হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে সায়াটিক নার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ। গর্ভাবস্থায় বড় হয়ে যাওয়া জরায়ুর চাপ যখন শরীরের দুটি সায়াটিক নার্ভের ওপর পড়ে তখন কোমরে, নিতম্বে বা উরুতে ব্যথা হতে পারে।

এ ধরনের ব্যথাকে বলে সায়াটিকা। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত কোমর বা কোমরের উপরে পিঠের মাঝ বরাবর হয়। আবার কিছু কিছু কারণে এ ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। যেমন- অনেকক্ষণ বসে থাকলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে। এছাড়া ভারী কিছু উঠালে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হসপিটাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে যা যা চেক করা জরুরি

» কবজি ব্যথা: কারণ ও করণীয়

» বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ববির ৪০ শিক্ষার্থীর সাফল্য

» আগামীতে আপনাদের সাথে কাজের মাধ্যমে দেখা হবে: ডেপুটি স্পিকার

» যে কারণে ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এক ভয়াবহ মোড়: দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

» ঈদের দিন সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস

» ২১ ঘণ্টা পর উত্তরের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

» কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ

» শাহবাগের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় হত্যার ঘটনায় আরো চারজন গ্রেপ্তার

» পদ্মা সেতুতে একদিনে টোল আদায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

গর্ভকালীন কোমর ব্যথার কারণ

ছবি সংগৃহীত

 

ডা. এম ইয়াছিন আলী :  গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা একটি পরিচিত সমস্যা। অন্তঃসত্ত্বাদের কাছ থেকে প্রায়ই এ ধরনের সমস্যার কথা শোনা যায়। এছাড়া এ সময় আরও কিছু সমস্যার কথা শোনা যায়। এসব ব্যথা মাতৃত্বকালীন সময়কে কঠিন করে তোলে। তাই এ বিষয়ে আমাদের আরো যত্নবান হতে হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি চারজনে তিনজন নারী গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা সমস্যায় ভুগে থাকেন। এ সমস্যা সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ দিকে বিশেষ করে তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে বেশি দেখা যায়। মায়ের জরায়ুর যে পাশে বাচ্চা অবস্থান করে সেদিকে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থায় কোমরে এ ধরনের ব্যথা কারও কারও জন্য তেমন সমস্যার কারণ না হলেও কারও জন্য এটা মারাত্মক হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোমরে ব্যথা হওয়ার কারণ নিয়েই এ প্রতিবেদন।

কেন কোমর ব্যথা হয় : গর্ভধারণের শুরু থেকেই শরীরের কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে প্রজেস্টেরন এবং রিলাক্সিন হরমোন সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি হিসেবে কোমরের বিভিন্ন জয়েন্ট এবং লিগামেন্টকে নরম এবং ঢিলা করে দেয়। এর ফলে মায়ের শরীর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। জয়েন্টের ভার বহন ক্ষমতা কমে যায় এবং হাঁটার সময়, বেশিক্ষণ বসে থাকলে, নিচে চেয়ার থেকে ওঠার সময় বা কোনো কিছু তোলার সময় ব্যথা অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বার শরীরের ভরকেন্দ্রও পরিবর্তিত হয় এবং পেটের পেশিগুলো সম্প্রসারিত ও দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে মায়ের Posutre আক্রান্ত হয় এবং পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। যেহেতু মায়ের শরীর এ সময় অতিরিক্ত ওজন বহন করে তাই এ সময় মায়ের শরীরের পেশি এবং জয়েন্টগুলোর ওপর চাপ বেশি থাকে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের পেলভিসে একজোড়া লিগামেন্ট থাকে যা রাউন্ড লিগামেন্ট নামে পরিচিত। এগুলোর কাজ হলো জরায়ুকে সঠিক স্থানে ধরে রাখা। গর্ভধারণের আগে এ লিগামেন্টগুলো পুরু এবং ছোট থাকে। গর্ভধারণের পড়ে জরায়ুর আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ লিগামেন্টগুলো রাবার ব্যান্ডের মতো প্রসারিত হয় এবং পাতলা হয়ে যায়। এ কারণে গর্ভাবস্থায় লিগামেন্টগুলো টান টান অবস্থায় থাকে এবং এতে হঠাৎ কোনো চাপ পড়লে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ ধরনের ব্যথাকে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন বলে। গর্ভবতী নারীরা যখন হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করেন তখন সাধারণত রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন অনুভূত হতে পারে, যেমন- বিছানা বা চেয়ার থেকে ওঠার সময়। কাশি দেওয়ার সময় বা বিছানায় নড়াচড়া করার সময়ও এ ব্যথা হতে পারে। রাউন্ড লিগামেন্ট পেইনের কারণে শারীরিক ধকল গেলেও চাপা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোমরে ব্যথা হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে সায়াটিক নার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ। গর্ভাবস্থায় বড় হয়ে যাওয়া জরায়ুর চাপ যখন শরীরের দুটি সায়াটিক নার্ভের ওপর পড়ে তখন কোমরে, নিতম্বে বা উরুতে ব্যথা হতে পারে।

এ ধরনের ব্যথাকে বলে সায়াটিকা। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত কোমর বা কোমরের উপরে পিঠের মাঝ বরাবর হয়। আবার কিছু কিছু কারণে এ ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। যেমন- অনেকক্ষণ বসে থাকলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে। এছাড়া ভারী কিছু উঠালে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হসপিটাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com